দেশ 

অবশেষে নাগপুর আসন জিতে চমক দিল কংগ্রেস!

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : অবশেষে কংগ্রেসের খাতা খুলল। যদিও চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনে কংগ্রেসের জোট সংগীত ইন্ডিয়া জোট ভালো ফল করলেও কংগ্রেস সে অর্থে ভালো ফল করতে পারেনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আরএসএসের সদর দফতর নাগপুরের আসনটি কংগ্রেস ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত খাতা খুলেছে কংগ্রেস। তা-ও ‘বড়’ আসন নাগপুরে। এটি শুধু রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শক্ত ঘাঁটিই নয়, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসেরও দুর্গ। তাঁর নিজের এলাকা। সম্মান বাঁচানোর লড়াইয়ে সেই নাগপুরে শেষ পর্যন্ত জিতে নিল কংগ্রেস। খাতা খোলা নিশ্চিত হতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর খোঁচার জবাব দিয়েছে কংগ্রেস। মোদীর উদ্দেশে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়েছে, “বলুন তো নাগপুরে কে জিতল?”

উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার এবং কর্নাটকের ২৮টি আসনে বিধান পরিষদ নির্বাচনের গণনা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে বেশির ভাগ আসনেরই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ্যে চলে আসে। তাতে কোথাও জয়ীর তালিকায় কংগ্রেস ছিল না। যে ক’টি আসনে গণনা চলছিল, তাতেও এগিয়ে ছিল না কংগ্রেস। তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী খোঁচা দেন কংগ্রেসকে। সমাজমাধ্যমে লেখেন, “চার বড় রাজ্যের ২৮ আসনে বিধান পরিষদ নির্বাচন হল। ব্যালট পেপারেই ভোট হয়েছে। বলুন তো কংগ্রেস কটা আসনে জিতল?” সঙ্গে চোখে আতশকাচ ধরা একটি ‘ইমোজি’ও জুড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নাগপুরে বিজেপির সুধাকর কোহালেকে পিছনে ফেলে দেন বিধান পরিষদের বিদায়ী সদস্য তথা কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ ওয়াংজারি। ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ পর্ষন্ত বৃহস্পতিবার ভোরে জয়ী হন কংগ্রেস প্রার্থী। বিজেপির সুধাকরকে পরাস্ত করেন ৩,২৭১ ভোটে।

মুখরক্ষার লড়াইয়ে কংগ্রেসের নাগপুর জিতে নেওয়া বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২০ সালেও নাগপুরের এই আসন থেকে জিতেছিলেন কংগ্রেস অভিজিৎ। তবে এই আসনটি বিজেপির অন্যতম ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। কারণ, সংঘের সদর দফতর হওয়ার পাশাপাশি এটি ফড়নবীসেরও নিজের শহর। তা ছাড়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকরীও ১৯৯০-২০১৪ সাল পর্যন্ত, টানা ২৪ বছর এই আসন থেকেই মহারাষ্ট্রের বিধান পরিষদের সদস্য ছিলেন। এ বারের নির্বাচনে সুধাকরের হয়ে ফড়নবীস এবং গডকরী উভয়েই ব্যাপক প্রচার করেছিলেন এলাকায়। তার পরেও এই হার বিজেপির জন্য একটি বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন অনেকে।

শুধু নাগপুরেই নয়, মহারাষ্ট্রের পাঁচ আসনের মধ্যে তিনটিতেই পরাস্ত হয়েছে মহারাষ্ট্রের বিজেপি-শিন্দে সেনার শাসক জোট। বিজেপি এবং একনাথ শিন্দের দল পেয়েছে একটি করে আসন। কংগ্রেস জিতেছে একটিতে। বাকি দু’টি আসন জিতে নিয়েছে শরদ পওয়ারের এনসিপি।

অন্য দিকে উত্তরপ্রদেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতেও একটি আসনে হারতে হয়েছে বিজেপি-কে। বারাণসীর অপর আসনের ফল এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। নাগপুর এবং বারাণসীতে বিজেপির ধাক্কা খাওয়া নিয়ে মোদীকে পাল্টা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। নাগপুরের জয় নিশ্চিত হতেই সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “আর তারপর… মোদী সাহেব নিজের লোকসভা কেন্দ্রেরই বিধান পরিষদ আসন হারালেন। শুধু তা-ই নয়, নাগপুরেও বিজেপি হেরে গেল। বলুন তো, নাগপুরে কারা জিতল?” প্রধানমন্ত্রী বুধবার রাতে কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়ে যে পোস্ট করেছিলেন, এটি তারই জবাব বলে ব্যাখ্যা করছেন অনেকে।

নাগপুরের ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই ফড়নবীসকেও খোঁচা দিচ্ছে কংগ্রেস। মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের সমাজমাধ্যম হ্যান্ডল থেকে ফড়নবীসের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করা হয়েছে। মূল পোস্টটি বর্তমানে ফড়নবীসের হ্যান্ডলে আর দেখা যাচ্ছে না। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, এই ভোটে কংগ্রেস ‘একটা বড় শূন্য’ পেয়েছে। ওই স্ক্রিনশট শেয়ার করে কংগ্রেসের খোঁচা, “চূড়ান্ত ফলঘোষণার আগেই, বড় কিছু করে ফেলার ভঙ্গিতে ফড়নবীস একটি টুইট করেছিলেন। কিন্তু সেই তির উল্টে তাঁরই গায়ে গিয়ে বিঁধল! শেষ পর্যন্ত তিনি টুইটটি মুছে ফেলতে বাধ্য হলেন।”


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ